ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অনীহা ও বিদ্রোহের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেশটির কয়েকশ সেনা সদস্য যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ারের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে তাদের হেল্পলাইন নম্বরগুলোতে সেনাসদস্যদের কলের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বেড়ে গেছে। নৈতিক বা ধর্মীয় কারণে যারা যুদ্ধ করতে চান না, তাদের সহায়তা করে এই সংস্থাটি। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রিসনার জানিয়েছেন, বর্তমানে মার্কিন সেনাদের মধ্যে ইরান যুদ্ধের প্রতি যে তীব্র বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে, তা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের সময়কার গণ-অসন্তোষকেও ছাড়িয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনাসদস্য জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জন শিশুর মৃত্যু তাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ‘ডাবল-ট্যাপ স্ট্রাইক’ (উদ্ধারকারীদের ওপর দ্বিতীয়বার হামলা) এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনাগুলো মার্কিন সেনাদের মধ্যে তীব্র ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই স্কুলে হামলার দায় অস্বীকার করেছে, তবে নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এর সপক্ষে জোরালো প্রমাণ হাজির করেছে।
এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট একটি বিতর্কিত ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ‘ড্রাফট’ বা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে দেশটিতে এটি বন্ধ ছিল।
এদিকে পেন্টাগন ইতোমধ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের একটি বড় প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করেছে। অন্যদিকে, ইরানও বসে নেই; তারা পাল্টা জবাবে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ সেকশন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা আর অন্যদিকে নিজের দেশের সেনাদের নৈতিক বিদ্রোহ এই দুই সংকটে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র।