র‍্যাপ গেয়ে তুলেছিলেন জেন-জি জোয়ার, এবার বসছেন প্রধানমন্ত্রীর আসনে

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাঠমান্ডুর রাস্তায় যার র‍্যাপ গানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঝরে পড়ত, সেই ৩৫ বছর বয়সী তরুণ বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ) এবার বসতে যাচ্ছেন হিমালয় কন্যা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর আসনে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তার দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর দেশের পরবর্তী কর্ণধার হিসেবে তার নাম এখন নিশ্চিত।

বালেন্দ্র শাহর গানের বিষয়বস্তু ছিল কাঠমান্ডুর ভাঙা রাস্তা, সামাজিক বৈষম্য আর প্রশাসনিক অনিয়ম। দীর্ঘদিনের ক্ষমতাবান রাজনৈতিক দলগুলো তার গানকে ‘নিছক গোলমাল’ বলে উড়িয়ে দিলেও নেপালের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) তার কথার মধ্যেই নিজেদের ভবিষ্যৎ খুঁজে পায়। এই তরুণদের শৃঙ্খল ভাঙার লড়াই গত বছর এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নেয়, যার জোয়ারে ভেসে যায় কেপি শর্মা অলির কমিউনিস্ট সরকারের মসনদ।

রাজনীতিতে নতুন হলেও বালেন্দ্র শাহর সাফল্যের মুকুটে আগেই যুক্ত ছিল এক চমকপ্রদ বিজয়। ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজিত করে মেয়র হন তিনি। চার বছরের মেয়াদে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে অভাবনীয় কারিশমা দেখান এই তরুণ। ২০২৫ সালের ‘জেন-জি’ অভ্যুত্থানের সময় সরাসরি তরুণদের পক্ষ নেওয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তার পালে হাওয়া লাগে। নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদ ছেড়ে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দেন।

২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকে নেপালের রাজনীতি চরম অস্থিতিশীল। গত ১৮ বছরে এক ডজনেরও বেশি সরকার গঠিত হয়েছে দেশটিতে। পুরোনো রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি জনগণের অনাস্থাই বালেন্দ্রর জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। গত বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর নেপালিরা বিকল্প নেতৃত্বের খোঁজ করছিল, যা বালেন্দ্রর আরএসপি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। বালেন্দ্রর এই জয়ে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সাকচিয়াম সাংরাউলা নামের এক কাঠমান্ডু বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, ‘বালেন্দ্র এই জাতিকে নতুন করে গড়বেন। আজ আমাদের চোখে আনন্দের অশ্রু।’