আর্থিক ও ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে তার কথিত ব্যবসায়িক যোগসূত্র এবং মানি লন্ডারিং তদন্তের মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন। খবর দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রী সুদান গুরুং এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং পদে থাকাকালীন যাতে “স্বার্থের সংঘাত” তৈরি না হয়, সে জন্য আমি আজ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।’
সুদান গুরুং তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, শেয়ারবাজারে তার বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্নগুলোকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
গুরুং তার বার্তায় নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমার কাছে পদের চেয়ে নৈতিকতা বড় এবং জন-আস্থার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। দেশে চলমান “জেন-জি” আন্দোলন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে দাবি জানাচ্ছে, তা আমাদের এই বার্তাই দেয় যে নেতৃত্বকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও দায়বদ্ধ হতে হবে।’
সুদান গুরুং বলেন, তার ৪৬ জন সহযোদ্ধার রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গঠিত এই সরকারের দিকে কেউ আঙুল তুললে তার উত্তর হতে হবে নৈতিকতা।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই সুদান গুরুং চাপের মুখে ছিলেন। এর আগে গত সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, ‘গুজব ও সত্য এক জিনিস নয়। আবেগের বশে নয়, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’ তিনি দলীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারে এটি দ্বিতীয় কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা। এর আগে ৯ এপ্রিল শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তামন্ত্রী দীপক কুমার শাহকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তার নিজ দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সুপারিশে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার স্ত্রী জুনু শ্রেষ্ঠাকে স্বাস্থ্যবিমা বোর্ডের সদস্যপদে বহাল রেখেছিলেন।
