হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সহায়তার আহ্বানে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীন। তবে বিশ্লেষক এবং বেইজিংয়ের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সম্ভাবনা খুবই কম। মূলত তিনটি প্রধান কারণে বেইজিং এই পদক্ষেপে আগ্রহী হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করা
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্ব ইতিহাস বলছে, তিনি ট্রাম্পের কোনো হুমকি বা চাপের মুখে সহজে নতি স্বীকার করেন না। গত বছরের শুল্ক (Tariff) যুদ্ধের সময় ট্রাম্প যখন ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, বেইজিং তখন পিছু হঠেনি বরং পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। ফলে ট্রাম্পের বর্তমান আহ্বানে সাড়া দেওয়া চীনের জন্য রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ও কূটনৈতিক নীতি
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে আসছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ক্রমাগত জোর দিয়ে বলছেন যে, ‘সামরিক শক্তি কোনো সমাধান নয়।’ বেইজিং বারবার উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছে। এমতাবস্থায় মার্কিন সামরিক জোটে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো চীনের ঘোষিত শান্তিবাদী কূটনৈতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।
ইরানের সাথে বিশেষ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সুবিধা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো ইরানের সাথে চীনের দীর্ঘস্থায়ী সুসম্পর্ক। চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। অপুষ্টিকর কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চীনের পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখনো নিরাপদেই চলাচল করতে পারছে। ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে বাধা দিচ্ছে। যেহেতু চীনের নিজস্ব জাহাজ চলাচলে কোনো বড় ঝুঁকি নেই, তাই সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির কোনো যৌক্তিক কারণ বেইজিংয়ের সামনে নেই। সূত্র: আলজাজিরা