ব্রিটিশ মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন

আমেরিকার সব কথা মানতে বাধ্য নয় যুক্তরাজ্য

হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে জাহাজ সরবরাহ না করলে মিত্রদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকির বিষয়ে ব্রিটিশ কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ করলেই তাতে রাজি হতে যুক্তরাজ্য বাধ্য নয়।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের তথাকথিত ‘উৎসাহের অভাব’ নিয়ে ট্রাম্প আবারও সমালোচনা করার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অন্যতম এ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বাগাড়ম্বর’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের ওপর তার ক্ষোভ পুনর্ব্যক্ত করেন। পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি—যা ইরানের পাল্টা হামলায় প্রায় বন্ধ হয়ে আছে—সেখানে জাহাজ না পাঠানোর কারণে তিনি এ বিরক্তি প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি অত্যন্ত সমীচীন যে যারা এই প্রণালির সুবিধাভোগী, তারা সেখানে যাতে খারাপ কিছু না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। যদি কোনো সাড়া না পাওয়া যায় বা নেতিবাচক সাড়া আসে, তবে আমি মনে করি এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে।’

অন্যান্য সদস্যরা ইরানের বিষয়ে তার দাবি না মানলে ট্রাম্প ন্যাটোর প্রতি সমর্থন কমিয়ে দিতে পারেন কিনা—এমন প্রশ্নে ম্যাকফ্যাডেন স্কাই নিউজকে বলেন, ‘এটাই তো প্রেসিডেন্টের বৈশিষ্ট্য। আপনি যে উদ্ধৃতিটি দিলেন তা দিয়েই তাকে চেনা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত লেনদেনমুখী একটি প্রেসিডেন্সি এবং আমাদের কাজ হলো এর মধ্য দিয়ে পথ খুঁজে নেওয়া। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্ব অনেক গভীর। এটি একটি ভালো এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মেয়াদের চেয়েও বেশি সময় টিকে থাকবে।’

জাহাজ পাঠানোর পরিবর্তে যুক্তরাজ্য এখন হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। কারণ, ট্রাম্পের দাবি সরাসরি মেনে নিলে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাকফ্যাডেন বলেন, ‘সত্যি বলতে—এই বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচিত হবে। আমি এই মুহূর্তে আপনাকে কোন কোন সরঞ্জাম পাঠানো হবে তার তালিকা দিতে পারছি না। তবে এই যুদ্ধে আমাদের অবস্থান হলো আমরা কোনো প্রধান পক্ষ হতে চাইনি।’

এর আগে টাইমস রেডিওর সঙ্গে আলাপকালে ম্যাকফ্যাডেন বলেন, ‘এই প্রেসিডেন্সিতে সব সময়ই অনেক বাগাড়ম্বর থাকে। এর ভেতরে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এটি অব্যাহত থাকবে। আমরা সব সময় একে অপরের সঙ্গে কথা বলি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে এর মানে এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো হস্তক্ষেপ বা পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেই আমাদের সব সময় তা সমর্থন করতে হবে।’

স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে যতটা সম্ভব সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে তার প্রথম সফরের সময় তিনি প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাজ্যে নজিরবিহীন দ্বিতীয়বারের মতো এক রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান।

কিন্তু ইরান আক্রমণের ক্ষেত্রে স্টারমারের পক্ষ থেকে সমর্থনের অভাব বা অনাগ্রহ দেখে ট্রাম্প বারবার তার সমালোচনা করেছেন। এই মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা এখন যার সঙ্গে কাজ করছি তিনি উইনস্টন চার্চিল নন।’

তবে ডাউনিং স্ট্রিট আত্মবিশ্বাসী যে, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে শুধু রক্ষণাত্মক ব্যবস্থায় সমর্থন দেওয়ার তাদের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং এটি যুক্তরাজ্যের সাধারণ জনমতের প্রতিফলন।

রোববার (১৫ মার্চ) স্টারমার ও ট্রাম্প ফোনে কথা বলেন। ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে কলটির একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটা রোধ করতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।