রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের হাতে থাকা অত্যাধুনিক হাইপারসনিক বা উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কোনো সক্ষমতা বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে স্বয়ং দেশটির উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য স্বীকার করেছেন।
মার্কিন মহাকাশ নীতি বিষয়ক সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক বার্কোভিটজ সিনেট শুনানিতে বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষরা এখন হাইপারসনিক এবং দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নন-ব্যালিস্টিক মারণাস্ত্র তৈরি করছে, যা সরাসরি আমাদের মাতৃভূমিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমান আমাদের যে ভূমি-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তা কেবল উত্তর কোরিয়ার ছোটখাটো হামলা ঠেকানোর জন্য তৈরি। উন্নত ক্রুজ বা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো প্রতিরক্ষা ঢাল বর্তমানে আমাদের হাতে নেই।’
দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এখন ‘গোল্ডেন ডোম’ (Golden Dome) নামে একটি নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই সিস্টেমটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি)।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো- স্থল, সমুদ্র, আকাশ এবং মহাকাশ জুড়ে সেন্সর ও ইন্টারসেপ্টরকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। এটি কেবল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং আধুনিক ড্রোন এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ সব ধরণের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করবে। স্পেস ফোর্সের জেনারেল মাইকেল গেটলেইন জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের মধ্যেই এই ব্যবস্থার প্রাথমিক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার আরও কিছু দুর্বলতা উঠে এসেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থার পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিথ এ কলিন্স দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে ইন্টারসেপ্টর বা মিসাইল ধ্বংসকারী অস্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এই সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং-এর এক প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বৈশ্বিক কৌশলগত পরিবেশ স্নায়ুযুদ্ধের (Cold War) সময়ের চেয়েও অনেক বেশি জটিল। আগে কেবল একটি দেশের সাথে প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু এখন একাধিক পারমাণবিক শক্তিধর দেশ অত্যন্ত উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে আমেরিকার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ফলে কেবল পারমাণবিক হুমকি নয়, বরং একটি শক্তিশালী ‘প্রতিরক্ষা ঢাল’ তৈরি করা এখন ওয়াশিংটনের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
ন্যাটো না ছাড়তে ট্রাম্পকে চার্লসের আহ্বান
পুতিনের ‘অটল সমর্থন’ কি ইরানের অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে যথেষ্ট
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন গ্রিন জোনে ড্রোন, গুলি চালালো বিমান প্রতিরক্ষা
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে রাজা চার্লসের সঙ্গে একমত ট্রাম্প