ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গত রাতে তেহরানে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি কেন্দ্রীয় কম্পাউন্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, এই স্থাপনাগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করা হতো।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের নিখুঁত হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী যন্ত্রাংশের গুদাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন একটি কম্পাউন্ড এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির বিশেষ সাইট বিধ্বস্ত হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, এই হামলার ফলে ইরানের "সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার" ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের জটিল ও অতিপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরির প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী বাধার মুখে পড়বে।
তবে এই হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত, সে সম্পর্কে ইসরাইল কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ইরান এখনো এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে ইসরাইলের এই দাবিগুলো যাচাই করতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রের পর তেহরানের খোদ মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্রে এই আঘাত ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ 'গুটিয়ে নেওয়ার' কথা বলছেন, তখন ইসরাইলের এই একক ও বড় মাপের অভিযান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তেহরানের অভ্যন্তরে এই ধরনের গভীর অনুপ্রবেশ ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা