ইরান যুদ্ধের মাঝেই ট্রাম্পের ‘রহস্যময়’ কর্মকাণ্ড

আমেরিকা এখন যুদ্ধাবস্থায়, মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন। কিন্তু এই চরম উত্তেজনার মাঝেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড যেন কূটনীতি, সামরিক হুঁশিয়ারি আর ব্যক্তিগত বিনোদনের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের অবস্থান কখনো যুদ্ধবাজ নেতার মতো, আবার কখনো সমঝোতাকামী চতুর রাজনীতিবিদের মতো দেখা গেছে।

ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় গত শুক্রবার, যখন ট্রাম্প বলেছিলেন ইরান যুদ্ধ ‘স্তিমিত’ হয়ে আসছে। কিন্তু শনিবার রাতেই তিনি ভোল বদলে ফেলেন। ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বসেন হয় হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দিতে হবে, নয়তো ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার এই হুমকি বিশ্ববাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

কিন্তু সোমবার সকালে আবার নাটকীয় মোড়। বিশ্ববাজার যখন ধসের আশঙ্কায় কাঁপছে, তখন ট্রাম্প ঘোষণা করলেন ইরানের সাথে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা চলছে। এই আলোচনার সূত্র ধরে তিনি প্রস্তাবিত হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করেন।

চরম এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার ট্রাম্পকে দেখা গেল ভিন্ন মেজাজে। তিনি টেনেসির মেমফিসে উড়ে যান এবং সেখানে রক অ্যান্ড রোল কিংবদন্তি এলভিস প্রেসলির ঐতিহাসিক বাড়ি ‘গ্রেসল্যান্ড’ পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি এলভিসের একটি গিটারের রেপ্লিকায় অটোগ্রাফ দেন এবং এলভিসের ফ্যাশন ও রুচির প্রশংসা করেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি এলভিসের বড় ভক্ত। ওনার ‘হার্ট’ (Hurt) গানটি আমার খুব প্রিয়।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই ভয়াবহ সময়ে ট্রাম্পের এমন সফর মূলত মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর বা নিজেকে ভারমুক্ত দেখানোর একটি কৌশল।

ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানের সাথে ‘১৫টি বিষয়ে সমঝোতা’ হয়েছে, তখন তেহরান বিষয়টিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্প আসলে ইরানের পাল্টা হুমকির মুখে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেছেন। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

তবে আলোচনার এই স্রেফ ‘আভাসেই’ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এক লাফে অনেকটা ওপরে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আশায় বুক বাঁধছেন যে হয়তো একটি বড় সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।

ট্রাম্প এখন ওয়াশিংটনে ফিরেছেন। শুরু হয়েছে ৫ দিনের সেই কাউন্টডাউন। যদি এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনো সুরাহা না হয়, তবে ট্রাম্পের সেই ‘অগ্নিবৃষ্টির’ হুমকি আবার সত্য হয়ে উঠতে পারে।

এলভিসের ভাষায় বলতে গেলে, পরিস্থিতি এখন ‘ইটস নাও অর নেভার’ (It’s Now or Never) হয় বড় কোনো শান্তি চুক্তি, নয়তো এক ভয়াবহ অন্ধকার যুদ্ধ। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।