মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত এখন এক চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইরানের ইসফাহান শহরের পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ মার্কিন হামলার পর তেহরান তার ‘সত্য-প্রতিশ্রুতি-৪’ অভিযানের ৮৭তম পর্বে বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘এমাদ’ ও ‘খুররামশাহর’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের তেল-আবিব, হাইফা এবং বাগদাদের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে। এর আগে মহল্লাত শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
জ্বালানি সংকট ও এশীয় দেশগুলোর পরিস্থিতি
এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকট প্রকট হচ্ছে। মিয়ানমারে তেলের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে; সেখানে কিউআর কোড এবং জোড়-বিজোড় সংখ্যা অনুযায়ী গাড়ি চলাচলের নিয়ম জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ৮ দফা দাবি জানিয়ে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীন ও পাকিস্তান অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিংয়ে এক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদাররা পদ্ধতিগত চাপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করছে। তেহরান অভ্যন্তরেও কঠোর অবস্থান নিয়ে এমকেও (MKO) সদস্য সন্দেহে দু'জনের ফাঁসি কার্যকর করেছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।