আবারও যুদ্ধের পথে ইরান, কড়া বার্তা দিলো যুক্তরাষ্ট্রকে

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফেরার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বার্তায় ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সরাসরি আঘাত হানবে।

রোববার (১৭ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ব্যয় শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকানদের পকেট থেকেই যাবে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি চিত্রও পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করেন।

আরাঘচির দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ছাড়াও মার্কিন অর্থনীতির ওপর আসল চাপ আসবে তখন, যখন সাধারণ মানুষের ঋণ ও গৃহঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার বাড়তে থাকবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি ঋণের খেলাপির হার ইতিমধ্যেই গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধের এই হুমকি বজায় থাকলে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।

একই সুর মিলিয়ে মার্কিন অর্থনীতিকে ব্যঙ্গ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, মোটা অঙ্কের সুদে ঋণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ’ (Theatrical War) চালাচ্ছে, যা একপর্যায়ে নতুন বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে। বাস্তবেও দেখা গেছে, সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ৫ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদের রেকর্ড। পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি এভাবে বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এই জলপথের ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌম অধিকারের দাবি করলেও উপসাগরীয় দেশগুলো ও মার্কিন জোট এটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে গণ্য করে। এর মাঝেই ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান একটি নতুন বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে। এর ফলে কেবল ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোই নির্দিষ্ট ফি বা টোল দেওয়ার মাধ্যমে যাতায়াতের সুবিধা পাবে, বাকিদের জন্য পথ বন্ধ থাকবে। সূত্র আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন