জাপানের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত পারিবারিক আইনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের পর এখন থেকে বাবা-মা উভয়েই সন্তানের যৌথ অভিভাবকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতদিন উন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭-এর মধ্যে একমাত্র জাপানেই এই নিয়ম ছিল না।
জাপানের আগের সিভিল কোড অনুযায়ী, ডিভোর্সের পর অভিভাবকত্ব কেবল একজন পেতেন—বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা। এর ফলে অন্যজন সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করার অধিকার প্রায় হারিয়ে ফেলতেন। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০২৪ সালে পার্লামেন্ট এই সংশোধনী অনুমোদন করে।
নতুন আইন অনুযায়ী, এখন থেকে পারিবারিক আদালত সিদ্ধান্ত নেবে যে অভিভাবকত্ব কি যৌথ হবে নাকি একক।
নতুন আইনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যারা পুরনো আইনের অধীনে ডিভোর্স নিয়েছেন, তারাও চাইলে এখন আদালতের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকত্বের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন।
সংশোধিত আইনে সন্তানের ভরণপোষণ বা 'চাইল্ড সাপোর্ট' দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে যে অভিভাবকের কাছে সন্তান থাকবে, তিনি অপর পক্ষের কাছ থেকে প্রতি মাসে অন্তত ২০ হাজার ইয়েন (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা) দাবি করতে পারবেন।
জাপানে এতদিন 'প্যারেন্টাল অ্যাবডাকশন' বা এক অভিভাবকের কাছ থেকে অন্য অভিভাবকের সন্তান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রায়ই আন্তর্জাতিক সংবাদে আসত। বিশেষ করে ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিকের সময় এক ফরাসি বাবার আমরণ অনশন এবং জাপানি টেবিল টেনিস তারকা আই ফুকুহারার বিরুদ্ধে তার তাইওয়ানিজ স্বামীর করা অপহরণের অভিযোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল। নতুন আইন এই ধরণের সংকট নিরসনে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই আইনের বিরোধিতাও রয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা এর ফলে তাদের প্রাক্তন স্বামীর সাথে যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হবেন। এই ঝুঁকি এড়াতে নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যদি পারিবারিক সহিংসতা বা শিশু নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আদালত একক অভিভাবকত্বের আদেশ বহাল রাখবে।
সূত্র: বিবিসি