মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক নতুন ও নাটকীয় মোড় সামনে এসেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে এবং এই নৌপথটি পুনরায় সচল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে সরাসরি যোগ দেওয়ার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় সামরিক শক্তিগুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ‘জোরপূর্বক’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। ইউএই বর্তমানে পর্যালোনা করছে তারা এই অভিযানে কীভাবে সরাসরি অবদান রাখতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, মাইন অপসারণ (Mine Clearing) অপারেশন থেকে শুরু করে সম্মুখ সমরেও অংশ নিতে পারে আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনী।
ইউএই কেবল সামরিক প্রস্তুতিই নিচ্ছে না, বরং কূটনৈতিক পথেও কাজ শুরু করেছে। দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি প্রস্তাব আনার চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়া যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান আমিরাতের ভেতরে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে আবুধাবির সুরক্ষাও এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২ মার্চ ইরান এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও জাহাজ চলাচলের খরচ আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। আমিরাত মনে করছে, এই নৌপথটি এভাবে অবরুদ্ধ থাকা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়।
এই বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিবেদনটি অস্বীকার করা হয়নি। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে একটি বিশ্বজনীন ঐকমত্য তৈরি হয়েছে এবং এর ব্যত্যয় ঘটানো আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দনীয়। সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল