হরমুজ প্রণালি খুললেও স্বাভাবিক হতে লাগবে কয়েক মাস

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে বন্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'হরমুজ প্রণালি' যদি আগামীকালও খুলে দেওয়া হয়, তবুও বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে বলে মনে করছেন সমুদ্র বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।

লজিস্টিক বিপর্যয় ও জাহাজের জট

জার্মান শিপিং জায়ান্ট হ্যাপাগ-লয়েড (Hapag-Lloyd) জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়া মানেই লজিস্টিকসের কাজ শেষ হওয়া নয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) তথ্যমতে, প্রায় ২,০০০ জাহাজ এই অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে। প্রণালি খুলে দেওয়ার পর পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোতে শত শত জাহাজের ভিড় তৈরি হবে, যা সামাল দেওয়া হবে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।

অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও ফোর্স ম্যাজিউর

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ৪০টিরও বেশি জ্বালানি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার এনার্জি ও কুয়েত পেট্রোলিয়ামের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় 'ফোর্স ম্যাজিউর' (অনিবার্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে। নাইট্রোজেন সার, পেট্রোকেমিক্যাল এবং প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও ঝুঁকি

বীমা খরচ: যুদ্ধের কারণে জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিরাপত্তা শঙ্কা: ড্রোনের মতো 'অসম' (Asymmetric) হামলা শিপিং খাতের ঝুঁকি চিরতরে বদলে দিয়েছে।

বিকল্প রুট: করোনা মহামারীর পর যেমন কোম্পানিগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছিল, এই যুদ্ধের পর তেমনি শিপিং কোম্পানিগুলো হরমুজ প্রণালির বিকল্প স্থায়ী রুটের দিকে ঝুঁকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়। এই জলপথটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

SN
আরও পড়ুন