মোজতবা খামেনি কোথায়? রহস্যের জট খুললেন রুশ রাষ্ট্রদূত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত একবারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনি। তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা, গুজব এবং প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অবশেষে এই রহস্যের জট খুললেন ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সি দেদোভ।

বুধবার (১ এপ্রিল) আরটিভিআই (RTVI) সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সি দেদোভ নিশ্চিত করেছেন যে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ‘ইরানেই অবস্থান’ করছেন।

রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশেই আছেন এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে কিছু ‘বোধগম্য কারণে’ (নিরাপত্তা ও কৌশলগত) তিনি বর্তমানে জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন। দেদোভের এই মন্তব্য পশ্চিমা বিশ্বের সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিলো, যেখানে বলা হয়েছিল মোজতবা উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপনে রাশিয়ায় চলে গেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর মেঝ ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি ছিল- ওই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁ-র চেহারা ‘বিকৃত’ হয়ে গেছে। এমনকি অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করেছিল, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে চিকিৎসার জন্য মোজতবা বর্তমানে মস্কোর একটি হাসপাতালে রয়েছেন। তবে রুশ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে এখন এটি পরিষ্কার যে, তিনি দেশ ছাড়েননি।

শারীরিকভাবে সামনে না এলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মোজতবা খামেনির প্রভাব গত এক মাসে বহুগুণ বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার পাঠানো কঠোর বার্তাগুলো ইরানি জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের আনুগত্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সূত্র: এনডিটিভি