মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই সংকট নিরসনে ডাকা ৩৫ দেশের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বুধবার (১ এপ্রিল) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন।
স্টারমার জানান, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) মোট ৩৫টি দেশ অংশ নেবে। মূলত যারা এই পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের নিয়েই এই ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট’ গঠন করা হচ্ছে।
কিয়ার স্টারমার বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে নৌ- চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ। এটি সহজ হবে না, তবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।' যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কীভাবে মাইন অপসারণ করে এবং সামরিক পাহারায় ট্যাঙ্কারগুলো পার করা যায়, তা নিয়ে ব্রিটিশ সামরিক পরিকল্পনাবিদরাও কাজ শুরু করেছেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সেই দেশগুলোর যারা এটি ব্যবহার করে। ইউরোপীয় দেশগুলো তার যুদ্ধে যথেষ্ট সহায়তা না করায় তিনি এই কঠোর অবস্থান নেন। ট্রাম্পের এই ‘একা চলো’ নীতির বিপরীতে ব্রিটেন এখন মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে নিজস্ব কূটনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় টিভিতে ঘোষণা করেছে, 'শত্রু দেশগুলোর' জন্য এই পথ বন্ধই থাকবে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, 'যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না। আমরা ইরানকে ধ্বংস করে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।'
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান