ট্রাম্পকে পাগল বললেন শান্তিতে নোবেলজয়ী আলবারাদি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘পাগল’ বা চরম উন্মাদ বলে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার সাবেক প্রধান ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মোহাম্মদ আলবারাদি। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) তিনি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি এক বিশেষ জরুরি আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ আলবারাদি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যেন নিজেদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে একটি জ্বলন্ত ‘আগুনের গোলায়’ পরিণত করা থেকে বিরত রাখে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। 

এএফপি জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর সাবেক সফল মহাপরিচালক আলবারাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “উপসাগরীয় সরকারগুলোর প্রতি আমার আকুল আবেদন—এই পাগল ব্যক্তি পুরো অঞ্চলকে একটি চিরস্থায়ী আগুনের গোলায় পরিণত করার আগে অনুগ্রহ করে আপনারা যার যার অবস্থান থেকে যা কিছু করার ক্ষমতা রাখেন তা অবিলম্বে করুন।”

পৃথক আরেকটি পোস্টে নোবেলজয়ী আলবারাদি ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের বিষয়য়ে ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করে বিশ্ব মোড়লদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে সরাসরি ট্যাগ করেন। 

এসময় তিনি অত্যন্ত অসহায়ত্বের সাথে লিখেছেন, “বিশ্বের এই চলমান চরম উন্মাদনা থামানোর জন্য আসলেই কি কিছু করা সম্ভব নয়?!” বিশ্বশান্তি বজায় রাখার তাগিদে তিনি এই পোস্টে চীন ও রাশিয়ার শক্তিশালী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও মেনশন বা ট্যাগ করেছেন।

এর আগে শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় বলেন, ইরানকে অবশ্যই একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে অথবা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জন্য খুলে দিতে হবে। 

ট্রাম্প তার নিজস্ব ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক হুংকারে লিখেছিলেন, “মনে আছে যখন আমি ইরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম চুক্তি করো অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দাও। এখন সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। তারপর দেশটিতে পুরো নরক নেমে আসবে।”

উল্লেখ্য, ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণ কূটনীতিবিদ মোহাম্মদ আলবারাদি মিশরের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নেতৃত্ব দেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুমুল আন্তর্জাতিক বিতর্ক শুরুর সময় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি এবং তার সংস্থা যৌথভাবে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।