প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে দেশটির সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইকুয়েডর।
প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার সরকার আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। মাদক পাচার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলম্বিয়া ব্যর্থ হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে এই পদক্ষেপ নিল ইকুয়েডর।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইকুয়েডরের উৎপাদন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কলম্বিয়া সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কলম্বিয়ার পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না দেখে ইকুয়েডর তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং মাদক পাচার প্রতিরোধ আমাদের কাছে ‘নন-নেগোশিয়েবল’ বা আপসহীন অগ্রাধিকার।
ইকুয়েডরের এই সিদ্ধান্তের মাত্র এক ঘণ্টা পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পদক্ষেপকে ‘নৃশংসতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর ফলে আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য জোট ‘আন্দিয়ান প্যাক্ট’ (Andean Pact) ধ্বংসের মুখে পড়বে।
পেত্রো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কলম্বিয়া আর এই জোটের সাথে থাকতে আগ্রহী নয় এবং এখন থেকে তারা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার নেতৃত্বাধীন ‘Mercosur’ জোটের পূর্ণ সদস্য হওয়ার দিকে মনোযোগ দেবে।
ইকুয়েডরের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট নোবোয়া মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করছেন। উল্লেখ্য যে, গত অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়াকে মাদকবিরোধী যুদ্ধে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রেসিডেন্ট পেত্রো ও তাঁর পরিবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকা’ জোটের সদস্য হিসেবে নোবোয়া শুরু থেকেই পেত্রোর ‘টোটাল পিস’ নীতির সমালোচনা করে আসছেন।
শুল্ক যুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও এখন তলানিতে। গত বুধবার ইকুয়েডর তাদের রাষ্ট্রদূতকে কলম্বিয়া থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর মূল কারণ ছিল প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে গ্লাসকে নিয়ে পেত্রোর মন্তব্য, যেখানে তিনি গ্লাসকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। এছাড়া কলম্বিয়া বর্তমানে ইকুয়েডরে বিদ্যুৎ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে, যা খরাকবলিত ইকুয়েডরের জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।