তুরস্কে দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সব দাঁত হারিয়ে চরম মানসিক বিষণ্ণতায় ভুগে আত্মহননের পথ বেছে নেন ৪৮ বছর বয়সী পাওয়েল বুকোস্কি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের নরফোক করোনার্স কোর্টে অনুষ্ঠিত এক তদন্ত শুনানিতে উঠে এসেছে তার এই করুণ মৃত্যুর নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর কাহিনী।
পেশায় ফর্কলিফট চালক এবং তিন সন্তানের জনক পাওয়েল বুকোস্কি 'পিরিওডন্টাল ডিজিজ' বা মাড়ির জটিল সংক্রমণে ভুগছিলেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান পেতে এবং দাঁত প্রতিস্থাপনের জন্য ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তুরস্কের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার সবকটি দাঁত তুলে ফেলা হলেও তাকে কোনো অস্থায়ী দাঁত দেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে জানানো হয় যে, নতুন ইমপ্লান্ট লাগানোর জন্য তাকে অন্তত ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
শুনানিতে পাওয়েলের স্ত্রী দারিয়া বুকোস্কা জানান, দাঁতহীন অবস্থায় যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর পাওয়েল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিজের চেহারা নিয়ে চরম হীনম্মন্যতা, ঠিকমতো খেতে না পারা এবং চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে গভীর বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দেয়। দারিয়া বলেন, সে বাঁচার সব আশা হারিয়ে ফেলেছিল। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারিনি।
গত বছরের ২৮ এপ্রিল বুকোস্কিকে তার নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নরফোক এলাকার করোনার জোহানা থম্পসন বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন।
বুকোস্কির স্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, তার স্বামী যখন আত্মহত্যার চিন্তা করছিলেন, তখন ব্রিটিশ হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সমর্থন পাননি। তিনি বলেন, পাওয়েল আরও ভালো সেবা পাওয়ার যোগ্য ছিল। আমি আশা করি এমন ঘটনা আর কোনো পরিবারের সাথে ঘটবে না। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান