হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের 'স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা' নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিং এই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট ও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যেকোনো ধরনের বাধা বা অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক পরিসরে উদ্বেগ তৈরি করছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ওয়াই, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন নৌচলাচল পুনরুদ্ধার এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি অভিন্ন ও জোরালো দাবি হিসেবে সামনে এসেছে, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি একই সঙ্গে আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও বৈধ অধিকার অবশ্যই সম্মান ও সুরক্ষিত রাখতে হবে, এবং এই বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমাধান টেকসই হতে পারে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালি চীনের জন্য উন্মুক্ত করছেন এবং বেইজিং ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে, যা কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্রও সামনে এসেছে, চীনা মালিকানাধীন রিচ স্টারি নামের একটি জাহাজ, যা পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে, যা চলমান অবরোধ পরিস্থিতির জটিলতা ও অনিশ্চয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
ইরান থেকে রপ্তানিকৃত তেলের একটি বড় অংশই চীন ক্রয় করে থাকে, যা মোট সরবরাহের ৮০ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল চীনের বাজারে প্রবাহিত হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে, যা এই সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে। সূত্র: স্কাই নিউজ