মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

ইসরায়েলে আরও যুদ্ধের পরিকল্পনা অনুমোদন

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে। একদিকে যখন দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

লেবাননকে ‘মৃত্যুপুরী’ বানানোর পরিকল্পনা

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) সেনাপ্রধান আইয়াল জামির ইরান ও লেবাননে নতুন যুদ্ধ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। আইডিএফ মুখপাত্র এফি ডেফরিন জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকাকে হিজবুল্লাহর জন্য ‘কিলিং এরিয়া’ বা মৃত্যুপুরী ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, অভিযানে এ পর্যন্ত ১,৭০০-এর বেশি হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হয়েছে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ ৩৯টি হামলার দাবি করেছে।

ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও ওয়াশিংটনের রাজনীতি

এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা সরাসরি কথা বলবেন। ট্রাম্প একে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব আবারও ব্যর্থ হয়েছে। ৪৭-৫২ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত রইলো।

চীনের আহ্বান ও ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে যুদ্ধ ও শান্তির সংকটময় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। এদিকে, আল-জাজিরার তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ জব্দ হয়ে আছে। ইরান দাবি করেছে, যেকোনো আলোচনার আগে অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত তেল বিক্রির অর্থ অবমুক্ত করতে হবে।

সব মিলিয়ে লিতানি নদীর ‘কিলিং এরিয়া’ থেকে শুরু করে শত বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ সবকিছুই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: বিবিসি

SN
আরও পড়ুন