রাশিয়ার ব্যবহৃত অনেক ড্রোন ইরানি নকশায় তৈরি: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও যৌথ মিশনের ডাক দিয়েছেন। 

তিনি জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার অবরোধ মোকাবিলায় ইউক্রেনের অর্জিত অভিজ্ঞতা এই আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সভাপতিত্বে আয়োজিত ৫০টি দেশের এক ভিডিও কনফারেন্সে জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বর্তমান সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো ‘আগ্রাসী শক্তি’ সমস্যা সৃষ্টির সাহস পাবে কিনা। 

জেলেনস্কি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমাদের গাজার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, যেখানে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে।’ 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।

রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের বন্দরগুলো অবরোধ করার চেষ্টা করেছিল, যা ইউক্রেন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। পণ্যবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়া, মাইন অপসারণ এবং আকাশপথে হামলা প্রতিহত করার বিষয়ে ইউক্রেন এখন বিশেষভাবে অভিজ্ঞ। 

রাশিয়ার ব্যবহৃত অনেক ড্রোন ইরানি নকশায় তৈরি। ইউক্রেন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করার কৌশল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে বলেও জানান তিনি। 

জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেন ইতোমধ্যে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ওমান, কুয়েত এবং বাহরাইনের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান