নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় এবং তার ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই ট্রাম্প এই বিধ্বংসী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কমলা হ্যারিস বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছেন যা আমেরিকার সাধারণ জনগণ কখনোই চায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এই যুদ্ধের ফলে মার্কিন সেনাদের অকারণে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, নির্মম ও অদক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করে হ্যারিস বলেন, ট্রাম্প নিজেকে শক্তিশালী প্রমাণ করতে গিয়ে যেখানে-সেখানে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহার করছেন।

সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্টের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র ও আন্তর্জাতিক জোটগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে সেগুলোর কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার মতো আন্তর্জাতিক নিয়মগুলোকে ট্রাম্প কেবল উপেক্ষাই করেননি, বরং প্রকাশ্যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন।’

তবে কমলা হ্যারিসের এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘আসলেই কি কেউ মনে করে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কেউ বলে দিতে পারে তাকে কী করতে হবে?’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ট্রাম্পের নিজস্ব এবং এতে অন্য কারও প্ররোচনা ছিল না।