ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের কামজং জেলায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা পুরো অঞ্চলে শক্তিশালী কম্পন সৃষ্টি করে। ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই ভূমিকম্পে স্থানীয় এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানায়, ভূমিকম্পটি ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভারতীয় সময় সকাল ৫টা ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে রেকর্ড করা হয়। এর মাত্রা ছিল ৫.২ এবং ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল অক্ষাংশ ২৪.৭০৩ উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৯৪.৪১৫ পূর্বে। ভূগর্ভে এর গভীরতা ছিল প্রায় ৬২ কিলোমিটার, যার কারণে ভূপৃষ্ঠে এর কম্পন মাঝারি মাত্রায় অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কামজং, মণিপুর, ভারত।
ভূমিকম্পের পর কামজং ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ভূকম্পনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে উল্লেখ করে অনেককে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে দেখা যায়।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ সরাসরি বড় কোনো চ্যুতিরেখার ওপর না থাকলেও পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের কারণে এ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। তাই প্রতিবেশী অঞ্চলে মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একাধিক মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ায় ভূ-প্রাকৃতিক সক্রিয়তা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব ঘটনা সরাসরি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়। তারপরও তারা ভূমিকম্প-প্রস্তুতি জোরদার করা এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হয়।
সূএ: টাইমস অব ইন্ডিয়া