ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের চমৎকার ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে খুব দ্রুতই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বলে তীব্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তাঁকে তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। মোদির সঙ্গে এই সুসম্পর্কের কারণেই দুই দেশ খুব শিগগিরই একটি যৌথ বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে এই ইতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্প আবারও অভিযোগ করেন যে, ভারত বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে সুবিধা নিয়েছে।
তার ভাষায়, বহু বছর ধরে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা নিয়েছে। তারা আমাদের ওপর অত্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপ করতো এবং প্রায় কিছুই দিতো না। এখন পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে এবং আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করছি।
ম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারত সফর করেছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা সহযোগিতা ও বাস্তববাদী মনোভাবের মধ্য দিয়ে হয়েছে এবং উভয় দেশ পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তদন্তে দেখা গেছে ৫৪টি দেশ থেকে আমদানি হওয়া কিছু পণ্য জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হতে পারে। এই তালিকায় ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, জাপান, কাতার ও রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত নয় এবং পর্যালোচনার প্রক্রিয়াধীন।
আলোচনার সময় ট্রাম্প আবারও হার্লে-ডেভিডসন মোটরসাইকেলের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, একসময় ভারতে হার্লে-ডেভিডসনের মোটরসাইকেলের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যার ফলে কোম্পানিটি ভারতে নিজস্ব কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য হয়।
ট্রাম্প বলেন, ভারতীয় মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পণ্য বিক্রি করেছে, আর আমরা তাদের কাছ থেকে কোনো শুল্ক নিইনি। এখন পরিস্থিতি বদলেছে।
চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে একমত হয়েছিল।
সেই কাঠামো অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এছাড়া রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তবে ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক পাল্টা শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।
এর পর থেকেই নতুন বাস্তবতায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা চলছে। সূত্র: এনডিটিভি
সরাসরি বৈঠকে বসতে পুতিনকে জেলেনস্কির খোলা চিঠি
মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে ইরানের তেল রপ্তানিতে ধস