জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশজুড়ে পরবর্তী এক সপ্তাহের জন্য মেগা ভূকম্পনের চরম ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) এই ভূমিকম্পের পর ৩ মিটার উচ্চতার সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজধানী টোকিও থেকে ৫৩০ কিলোমিটার উত্তরে ইওয়াতে অঞ্চলের সমুদ্রতটে ১০ কিলোমিটার গভীরে এই শক্তিশালী কম্পনটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপরই উত্তর হোনশু এবং হোক্কাইডো দ্বীপে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। যদিও পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে এবং সোমবার রাতেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৮.০ মাত্রার চেয়েও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনগণকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাপানের ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে কিছু এলাকায় বুলেট ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা নিহতের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ইওয়াতে ও হোক্কাইডো অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই শক্তিশালী কম্পন জাপানিদের মনে ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। সে সময় ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল। মূলত ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের ৬.০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ১০ শতাংশের সাক্ষী হয়ে থাকে। সূত্র: বিবিসি