দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা) ঋণ প্রদানের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় রাশিয়ার তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি পুনরায় সচল হওয়ায় এই ঋণের পথ প্রশস্ত হলো।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সাইপ্রাসে অনুষ্ঠিত ইইউ রাষ্ট্রদূতদের এক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে।
গত ডিসেম্বরে এই ঋণ দেওয়ার বিষয়ে ইইউ নীতিগতভাবে একমত হলেও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এতে ভেটো দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করছে। তবে ইউক্রেন সম্প্রতি জানায় যে, রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়েছে এবং তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এই অগ্রগতির পরপরই হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া তাদের আপত্তি তুলে নেয় এবং ইইউ রাষ্ট্রদূতরা ঋণের অনুমোদন দেন।
ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী তারাস কাচকা এই ঋণকে ‘জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশাল অংকের অর্থের দুই-তৃতীয়াংশ ব্যয় করা হবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। বাকি এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ আর্থিক সহায়তা ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় হবে।
ঋণ অনুমোদনের পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২০তম দফা নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ নিয়েও একমত হয়েছেন ইইউ কর্মকর্তারা। ইইউ-র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, ‘এই ঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে রাশিয়া কোনোভাবেই ইউক্রেনের চেয়ে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।’
দীর্ঘ ১৬ বছর শাসনের পর সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভিক্টর অরবানের পরাজয় ইইউ-হাঙ্গেরি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মোড় এনেছে। অরবানের উত্তরসূরি পিটার ম্যাগিয়ার বর্তমানে ব্রাসেলসের সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন, যার ইতিবাচক প্রভাব এই ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও পড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইইউ-র এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘ইউক্রেন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে পাইপলাইন মেরামত করেছে, এখন ইইউ-র প্রতিশ্রুতি পূরণের সময়।’ বৃহস্পতিবার এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হবে।