ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ইসরায়েলের সাথে তাদের অংশীদারিত্ব চুক্তি স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে, স্পেন, স্লোভেনিয়া এবং আয়ারল্যান্ড। তাদের মতে, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং লেবাননে পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই জোট আর ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকতে পারে না।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকের আগে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেজ জানান, তিনটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য অনুরোধ করেছে।
আলবারেজ বলেন, স্পেন, স্লোভেনিয়া এবং আয়ারল্যান্ডের সাথে মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের মধ্যে অংশীদারিত্ব চুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি নিয়ে আজ আলোচনা ও বিতর্কের জন্য অনুরোধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি প্রতিটি ইউরোপীয় দেশ মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও জাতিসংঘের বক্তব্যকে সমুন্নত রাখবে। এর থেকে ভিন্ন কিছু হলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি পরাজয় হবে।’
গত সপ্তাহে ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসকে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তিনটি সরকার বলেছে, ইসরায়েল এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা ‘মানবাধিকারের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে।’ এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ১৯৯৫ সালের সেই চুক্তিটি লঙ্ঘন করেছে, যেটিতে ইইউ এবং ইসরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের রূপরেখা দেওয়া আছে।
দেশ তিনটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য ইসরায়েলের কাছে করা বারবার আবেদন উপেক্ষিত হয়েছে।
তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের একটি প্রস্তাবিত আইনের কথা উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি পাস হওয়া ওই আইন অনুযায়ী, সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তারা এটিকে ‘মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা ‘পদ্ধতিগত নিপীড়ন, দমন-পীড়ন, সহিংসতা ও বৈষম্যের’ ক্ষেত্রে আরও একটি ইসরায়েলি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
