আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী লেজার অস্ত্র উন্মোচন করেছে চীন। ‘এনআই-এলথ্রিকে’ (NI-L3K) নামের এই মোবাইল লেজার সিস্টেমটি একটি হালকা পিকআপ ভ্যানে স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট (১.৪ কিলোমিটার) দূর থেকেই ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।
চীনের হুনানভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘নোভালস্কি টেকনোলজি’ এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি তৈরি করেছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ডিফেন্স সার্ভিসেস এশিয়া (ডিএসএ) ২০২৬’ প্রদর্শনীতে এটি প্রদর্শন করা হয়। এই লেজার গানটি মূলত ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার শক্তি ব্যবহার করে কমার্শিয়াল কোয়াডকপ্টার এবং এফপিভি (FPV) ড্রোনের মতো আকাশপথের হুমকিগুলো মোকাবিলা করতে পারে।
অস্ত্রটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
- সাশ্রয়ী খরচ: ঐতিহ্যবাহী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি মিসাইল ছুড়তে যেখানে হাজার হাজার ডলার ব্যয় হয়, সেখানে এই লেজার গানের প্রতিটি শটে খরচ হবে মাত্র ১০ মার্কিন ডলার।
- দ্রুত কার্যকর: সিস্টেমটি ড্রোনের ব্যাটারি বা মোটরের ওপর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি প্রয়োগ করে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সেটিকে অকেজো করে দিতে পারে।
- সহজ মোতায়েন: একটি সাধারণ পিকআপ ভ্যানের ওপর এটি মাউন্ট করা থাকে। এর ছাদের ওপর থাকা লেজার টারেটটি ৩৬০ ডিগ্রির কাছাকাছি (মাইনাস ১৭৫ থেকে ১৭৫ ডিগ্রি) ঘুরতে পারে।
- গোলাবারুদ মুক্ত: এই অস্ত্র পরিচালনায় কোনো গোলাবারুদের প্রয়োজন হয় না; এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ শক্তিতে চলে।
সাশ্রয়ী হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এনআই-এলথ্রিকে সিস্টেমটি অনবোর্ড ব্যাটারি দিয়ে মাত্র আধা ঘণ্টা একটানা কাজ করতে পারে। এছাড়া কুয়াশা, ধুলিকণা বা অতিরিক্ত আর্দ্রতায় এর কার্যকারিতা কিছুটা কমে যেতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে মিসাইল বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের বাধা পেরিয়ে আসা ড্রোনগুলো ঠেকাতে এই লেজার গানটি হবে প্রতিরক্ষার ‘শেষ ধাপ’ (Last line of defense)। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ফাইবার লেজার উৎপাদনের ৩৫ শতাংশই চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা এই প্রযুক্তি রপ্তানিতে বড় বাজার ধরার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: এমএসএন