ইরানি তেল কেনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার পর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে চীনের অন্যতম বৃহৎ স্বতন্ত্র তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ‘হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল’ (Hengli Petrochemical)। প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে তাদের কোনো ধরণের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই।
রোববার (২৬ এপ্রিল) স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন দাবি করে যে, হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান (দলিয়ান রিফাইনারি) আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় হেংলি জানিয়েছে, তারা কখনোই ইরানের সঙ্গে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষ বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সব অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সরবরাহকৃত তেলের উৎস মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়।’
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও হেংলি দাবি করেছে যে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বর্তমানে তাদের ভাণ্ডারে তিন মাসেরও বেশি সময়ের জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। ফলে তেলের অভাবে রিফাইনারি বন্ধ হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই এবং তেল কেনা বা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।
মার্কিন এই পদক্ষেপকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল বলেছে, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার কোনো তথ্যগত বা আইনি ভিত্তি নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম মেনে তারা এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।