যেকোনো সময় বরখাস্ত হতে পারেন এফবিআই প্রধান প্যাটেল

নানা বিতর্কের মুখে থাকা মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক কাশ প্যাটেলকে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে যেকোনো সময় সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, প্যাটেলের বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি এখন কেবল ‘সময়ের ব্যাপার’। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের এক অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এই তথ্য সামনে এল।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাশ প্যাটেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে বই লিখে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৪ মাসের মাথায় মদ্যপান ও নৈতিকতা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাটেল অতীতে মদ্যপানের দায়ে গ্রেফতার হওয়ার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। ছাত্রজীবনে ভার্জিনিয়ায় একবার এবং পরবর্তীতে নিউ ইয়র্কে জনসম্মুখে মূত্রত্যাগের দায়ে তিনি আইনি ঝামেলায় পড়েছিলেন। দ্য আটলান্টিক-এ তাঁর অ্যালকোহল সেবনের ধরন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাটরা তাঁর স্ক্রিনিং টেস্টের দাবি জানিয়েছেন। যদিও প্যাটেল দাবি করেছেন, তিনি কখনো দায়িত্ব পালনকালে নেশাগ্রস্ত ছিলেন না।

বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখেও পড়েছেন প্যাটেল। গত মার্চ মাসে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠী প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল হ্যাক করে তাঁর ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ করে, যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প তাঁর অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেন, যাঁকে প্যাটেলের মেন্টর বা পরামর্শদাতা হিসেবে দেখা হতো। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিচারের ধীরগতি এবং জেফরি এপস্টেইন ফাইল সামলানোর বিষয়ে বন্ডির ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। ২ এপ্রিল বন্ডির বিদায়ের পর থেকেই প্যাটেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের এখনো এফবিআই পরিচালকের ওপর ‘আস্থা রয়েছে’। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা মদ্যপানের অভিযোগ অস্বীকার করে দ্য আটলান্টিক-এর বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেছেন কাশ প্যাটেল। সূত্র: দ্য ইন্টারসেপ্ট ও পলিটিকো