মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় দুই মাস বন্ধ ছিল। দীর্ঘ এই অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই একটি বিশাল ট্যাঙ্কার সফলভাবে এই নৌপথ পাড়ি দিয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং কোম্পানি ‘কেপলার’ (Kpler)-এর তথ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবর উঠে এসেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি কর্তৃক বিশ্লেষিত কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি অ্যাডনক (ADNOC) পরিচালিত ‘মুবারক’ নামের ট্যাঙ্কারটি এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে। জাহাজটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস আইল্যান্ড থেকে গত ২ মার্চ যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এটি দীর্ঘ সময় সাগরে আটকা পড়ে ছিল।
তথ্য বলছে, নিরাপত্তার খাতিরে জাহাজটি মার্চের শেষ দিক থেকে টানা এক মাস তাদের ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ (AIS) বা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে বিশ্ব থেকে জাহাজটি এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এটি ভারতীয় উপকূলে পৌঁছানোর পর পুনরায় জাহাজটির সিগন্যাল পাওয়া গেছে।
কেপলারের বিশ্লেষক চার্লস কোস্ট্রাউস তার নোটে উল্লেখ করেছেন, জাহাজটি সম্ভবত ১৮ ও ১৯ এপ্রিলের দিকে সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি ভারতের উপকূলে অবস্থান করছে। যেখানে অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এই রুটটি এড়িয়ে চলছে, সেখানে এই ট্যাঙ্কারের পারাপার বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন আশা দেখাচ্ছে।
গত ২ মার্চ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কেবল ‘সোহার’ নামে একটি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি অতিক্রম করেছিল, তবে সেটি ছিল প্রায় খালি। অন্যদিকে, কেপলারের তথ্য বলছে, ১ মার্চ থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ৭০টিরও বেশি জাহাজ ছেড়ে গেছে, যার বড় একটি অংশ মূলত ইরানের বন্দর থেকে যাত্রা করেছে। সূত্র: বিবিসি ও এএফপি।