আমেরিকার কথার গুরুত্ব আছে: রাজা চার্লস

মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাষণকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে দিনভর বিরাজ করছিল এক অনন্য উত্তেজনা। 

রাজকীয় গাম্ভীর্য আর আমেরিকান আতিথেয়তার মিশেলে এই আয়োজনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত এক মিলনমেলা।

টেলিভিশনের পর্দায় ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ বা প্রেসিডেন্টের বড় বড় ভাষণ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকের থাকলেও, সশরীরে ক্যাপিটলে রাজার উপস্থিতির প্রভাব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। 

প্রতিনিধি পরিষদের কক্ষে রাজা প্রবেশ করার সাথে সাথেই সেখানকার পরিবেশ এক নিমিষে বদলে যায়। উপস্থিত সিনেটর এবং প্রতিনিধিদের মধ্যে রাজার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা ও বিস্ময় লক্ষ্য করা গেছে।

রাজা যখন তার বক্তব্য শুরু করেন, উপস্থিত দর্শকরা গভীর মনোযোগ দিয়ে তার প্রতিটি কথা শুনছিলেন। তার বক্তব্যের অনেক পয়েন্টে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। 

রাজা যখন বললেন, ‘আমেরিকার কথার গুরুত্ব আছে’, তখন উপস্থিত সদস্যদের মধ্য থেকে সম্মতির গুঞ্জন শোনা যায়।

যদিও রাজার ভাষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুতর বিষয় উঠে এসেছিল, তবুও পুরো পরিবেশটি ছিল বেশ আনন্দঘন ও হালকা মেজাজের। এর প্রধান কারণ ছিল রাজার রসবোধ। বক্তব্যের মাঝে মাঝে করা তার জুতসই রসিকতাগুলো দর্শকদের বেশ বিনোদিত করেছে।

বিশেষ করে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের 'জিম্মি' রাখার পুরনো ঐতিহাসিক প্রথা নিয়ে রাজা যখন স্পিকার মাইক জনসনকে উদ্দেশ্য করে রসিকতা করেন, তখন পুরো কক্ষ হাসিতে ফেটে পড়ে। 

তিনি মজা করে জানতে চেয়েছিলেন, সেখানে কেউ জিম্মি হতে রাজি আছেন কি না!

রাজার এই সফর এবং ভাষণ মার্কিন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের গভীরতাকে যেমন মনে করিয়ে দিয়েছে, তেমনি তার ব্যক্তিগত রসবোধ ক্যাপিটলের কঠোর রাজনৈতিক পরিবেশে এক পশলা স্বস্তির বাতাস বয়ে এনেছে। সূত্র: বিবিসি