যুদ্ধবিরতির সুযোগে সামরিক শক্তি গোছাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ এবং বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালাতে ইরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করতে চাইছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার মতো সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প ও ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করবেন।

মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে হোয়াইট হাউজ বিশেষ ‘অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে এর আগে একবার এই সফর পিছিয়ে যাওয়ায় প্রশাসন এবার আর দেরি করতে আগ্রহী নয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান ধ্বংসস্তূপ থেকে অবশিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সেগুলো প্রতিস্থাপনের ক্ষমতা তাদের নেই।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তবে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যাচ্ছে ইরানের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান এবং আইআরজিসি-র নৌ-সরঞ্জামের একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছাতে দুই পক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।