যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে ইরানের নতুন প্রস্তাব

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে একটি নতুন সংশোধিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। 

শুক্রবার (১ মে) একজন ইরানি কূটনীতিক কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত সপ্তাহে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল- যুদ্ধ চলাকালীনই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে, অন্যদিকে ইরান চেয়েছিল যুদ্ধ থামার পর এ বিষয়ে আলোচনা করতে। এবারের নতুন ও সংশোধিত প্রস্তাবে ইরান তাদের আগের অবস্থানে কোনো নমনীয়তা দেখিয়েছে কি না বা নতুন কী শর্ত যুক্ত করেছে, তা এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরমাণু সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। এই ভয়াবহ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপৌরসহ শীর্ষ প্রায় সব নেতা নিহত হন। এতে ইরানের ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

তবে ইরানও দমে যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইয়েমেনের হুতি ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সরাসরি অংশগ্রহণে এই যুদ্ধ পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্ব তেলের বাজারে ধস নামে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

টানা ৩৮ দিন ভয়াবহ যুদ্ধের পর গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল উভয় পক্ষ। গত ২৩ এপ্রিল সেই মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ নতুন করে হামলা শুরু করেনি। তবে হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের নৌবাহিনীর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি সংঘাত নিরসনে শেষ আশা হিসেবে দেখা হচ্ছে।