মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধের আইনি বৈধতা নিয়ে নিজ দেশের কংগ্রেসে চরম চাপের মুখে রয়েছেন, ঠিক তখনই ইরানের রাজধানী তেহরানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তেহরানের আকাশে ছোট আকৃতির বিমান ও রহস্যময় ড্রোন শনাক্ত করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তেহরানের বিভিন্ন অংশে হঠাৎ করেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবর্ষণের বিকট শব্দ শোনা যায়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে এই ব্যবস্থাটি সন্দেহভাজন ছোট বিমান ও নজরদারি ড্রোন মোকাবিলায় সক্রিয় ছিল। তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ২০ মিনিট পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের পূর্বানুমতি নেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা (৬০ দিন) ঘনিয়ে আসায় বড় ধরণের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের পর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের সবুজ সংকেত বাধ্যতামূলক। এ নিয়ে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, এপ্রিল মাসে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের সময় গণনার নিয়মটি বর্তমানে কার্যকর নেই। এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হলেও ৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির ফলে যুদ্ধের ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে, তাই নতুন করে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই যুক্তি মানতে নারাজ।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ স্বীকার করতে হয়েছে। তিনি ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের হুমকিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন।
অন্যদিকে, এই অস্থিরতার প্রবাদে বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। যদিও পরে তা সামান্য কমে আসে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, বর্তমানে জ্বালানি ও রণকৌশল- উভয় দিক থেকেই ‘পরিস্থিতি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সহযোগী ৬ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চায় ইরান
যুদ্ধবিরতির সুযোগে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে মিসাইল ও অস্ত্র বের করছে ইরান