মধ্যপ্রাচ্যে বেড়েছে মার্কিন সামরিক বিমানের তৎপরতা, কীসের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বিমান চলাচল সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাড়তি তৎপরতার বড় অংশজুড়ে রয়েছে পরিবহন ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান।

রিয়েল-টাইম ফ্লাইট ট্র্যাকিং পরিষেবা ফ্লাইটরাডার২৪ শনিবার (২ মে) ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে মার্কিন সামরিক বিমানের যাতায়াতে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন শনাক্ত করে। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব বিমানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার থ্রি কার্গো বিমান, যেগুলো প্রায় ৭৭ টন সরঞ্জাম ও প্রায় ১০০ জন পর্যন্ত কর্মী পরিবহনে সক্ষম।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২টি পরিবহন বিমান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়, যার কিছু জার্মানি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পাশাপাশি বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও সক্রিয় ছিল, এবং ইসরায়েল ও আশপাশের অঞ্চলে অন্তত চারটি এমন ট্যাঙ্কার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে একই সময়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের তিনি জানান, 'ইরান যদি অসদাচরণ করে বা কোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে পুনরায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।'

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক বর্তমানে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তির দিকে আগ্রহী।' তিনি জানান, সম্ভাব্য চুক্তির একটি কাঠামো সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং এখন তিনি চূড়ান্ত খসড়ার অপেক্ষায় আছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার ইঙ্গিতও দেন।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রভাবশালী মহল থেকে এসেছে পাল্টা কড়া বক্তব্য। আইআরজিসি-র সাবেক কমান্ডার ও তেহরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন উপস্থিতিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং এটিকে ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির জন্য বিপজ্জনক অঞ্চলে পরিণত করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা ইরানের হাতে রয়েছে, যা অতীতের বিভিন্ন সংঘর্ষের উদাহরণ দিয়ে তিনি তুলে ধরেন। সূত্র: আলজাজিরা