পারস্য উপসাগরে আধিপত্য বিস্তার ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সোমবার (৪ মে) নতুন করে ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলা গত মাসে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে এক প্রকার ভেস্তে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা আবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বিদেশি ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারায় বের করে আনতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এই পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধের উসকানি হিসেবে দেখছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত লঙ্ঘন বলে গণ্য করা হবে।
সোমবার দিনভর চলা এই সংঘাতে উভয় পক্ষই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাতটি ‘দ্রুতগামী সামরিক নৌকা’ ধ্বংস করা হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল বন্দরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। হামলার ফলে বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সংঘাত চলাকালীন তাদের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা। হরমুজ প্রণালি পুনরায় অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। সূত্র: রয়টার্স