যুক্তরাষ্ট্র কি শেষ পর্যন্ত ইরানের মূল দাবি মেনে নিয়েছে, প্রথমে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা, পরে পারমাণবিক ইস্যু, এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রে। কারণ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ওয়াশিংটনের অবস্থানে একের পর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় এসকর্ট অভিযান শুরু করলেও, মঙ্গলবার দুপুরেই হঠাৎ সেই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল বার্তায় জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য 'চূড়ান্ত চুক্তির অগ্রগতি' বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন যে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে এবং এখন লক্ষ্য একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করা, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটিই মূল মোড়, কারণ এতদিন ওয়াশিংটনের অবস্থান ছিল একেবারে ভিন্ন। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংসের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু এখন আলোচনা সীমিত হয়ে এসেছে একটি প্রাথমিক কাঠামো চুক্তির দিকে।
ইরানও দীর্ঘদিন ধরে একই দাবি করে আসছিল, যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ নিয়ে সমঝোতা, এরপর পারমাণবিক আলোচনা। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই কাঠামোতেই ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র এগোচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এখনো বড় ফাঁক রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন চায় হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা শেষ হোক, অন্যদিকে তেহরান চায় নতুন একটি পরিচালনা কাঠামো। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরত্বপূর্ণ।
এর মধ্যেই কূটনৈতিক সময়সীমা দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। চীন, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতা, আসন্ন বৈঠক এবং আঞ্চলিক চাপ, সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও গতিশীল করে তুলছে। সূত্র: আলজাজিরা