ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য অবসান নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত আসার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দামের নিম্নমুখী ধারা শুধু বজায়ই থাকেনি, বরং তা আরও স্পষ্ট, গভীর এবং বিস্তৃত আকারে দৃশ্যমান হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব, বাজারের প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা একসঙ্গে মিলে একটি সতর্ক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ ডলারে নেমে আসে, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামও প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৫ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। এর আগের সেশনেও দুই সূচকই প্রায় ৪ শতাংশ করে কমেছিল, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে ধারাবাহিক ও সুস্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই দামের পতন কেবল সংখ্যার ওঠানামা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের স্বস্তি, যা সরবরাহ-সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আংশিক হলেও শিথিল করেছে। ফলে বাজারে একদিকে যেমন সতর্ক আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে হিসাব-নিকাশও নতুনভাবে শুরু হয়েছে।
এদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি-কে ঘিরে পরিস্থিতি এখনো বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ উদ্যোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত এই জলপথে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সূত্র: আলজাজিরা
সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে ট্রাম্প-মের্ৎস বিরোধে নতুন মাত্রা
প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন শেহবাজ