ইরান ইস্যুর সমাধান সরাসরি গাজার ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন মিশরের একজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক। আলজাজিরা অ্যারাবিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হলে মার্কিন প্রশাসন তাদের পূর্ণ মনোযোগ গাজা সংকটের দিকে সরিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আলজাজিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কূটনীতিকের বরাতে প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানায়, গত কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের কারণে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা অনেকটাই আড়ালে পড়ে গিয়েছিল। তবে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকায়, আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন করে চাপ দেবে।
মিশরীয় ওই কূটনীতিকের মতে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো (মিশর, কাতার ও পাকিস্তান) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যেন তারা ইসরায়েলকে হামাসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ (Phase 1) বাস্তবায়নে বাধ্য করে। প্রথম ধাপের শর্ত অনুযায়ী:
- গাজায় সব ধরনের বিমান ও স্থল হামলা বন্ধ করা।
- মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
- বন্দী ও জিম্মি বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনকে অগ্রাধিকার দিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে গাজা সংকটের সমাধান অপরিহার্য। মিশরের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি এবং সমঝোতা চুক্তি সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গাজা নিয়ে নতুন কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে।