যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিতে ফিরতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে পেজেশকিয়ান এই আগ্রহের কথা জানান। সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ইরান শান্তির পথে হাঁটতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফায় ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা তিনি ইরানের ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’র শামিল বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষে ওয়াশিংটন ও তেহরান মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এই প্রস্তাবিত চুক্তিতে মূলত তিনটি প্রধান শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, ইরান তাদের বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেবে। দ্বিতীয়ত, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেবে। সবশেষে, উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর দেওয়া সব ধরনের নৌ-অবরোধ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে সম্মত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এবং এক পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত চুক্তির সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আশা জাগিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে ইরানের যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: গালফ নিউজ