মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই কাতারের আকাশ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রিফুয়েলিং বিমান ‘কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’ (KC-135 Stratotanker)। রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানটির পাইলট জরুরি বিপদসংকেত ‘৭৭০০’ (7700 Emergency Code) পাঠিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্যের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এসেছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল ধাফরা’ বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি কাতারের আকাশে বেশ কয়েকবার চক্কর কাটে এবং হঠাৎ করেই নিচের দিকে নামতে শুরু করে। ঠিক তখনই পাইলট জরুরি অবতরণের সংকেত পাঠান এবং এর পরপরই রাডার থেকে বিমানটি পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। বর্তমানে পারস্য উপসাগরের ঠিক কোথায় বিমানটির অবস্থান, তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার মূলত মাঝ-আকাশে অন্য যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার (Mid-air Refueling) কাজে ব্যবহৃত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই বিশেষ বিমানটি পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ছিল। জ্বালানি সরবরাহ ছাড়াও এটি উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ মার্কিন বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ করলেও পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না কি এটি কোনো হামলার শিকার হয়েছে- সে বিষয়েও ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান কেউই মুখ খোলেনি।
গত কয়েক দিন ধরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ইরানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে সম্প্রতি আমেরিকা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করেছে। এর মধ্যেই এমন একটি বড় ধরণের সামরিক বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এর আগে পশ্চিম ইরাকে এই একই মডেলের একটি বিমান নিখোঁজ হয়েছিল, যা ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। বর্তমান ঘটনাটি সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি কি না, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানামুখী জল্পনা চলছে।