তাইওয়ান উপকূলে জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, চীনের হুঁশিয়ারি

দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে বারুদ ঢাললো জাপান। তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী কৌশলগত সমুদ্রসীমায় শক্তিশালী জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে টোকিও। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষায় একটি পুরোনো যুদ্ধজাহাজকে সরাসরি আঘাত করে সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জাপানের এমন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দীর্ঘদিনের ‘শান্তিবাদী’ অবস্থান থেকে দ্রুত সরে আসছে। গত কয়েক দিনে টোকিও তার প্রতিরক্ষা নীতিকে আরও আক্রমণাত্মক করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থনে জাপান এখন কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং ‘পাল্টা আঘাত’ করার সক্ষমতা অর্জনে বিশেষ জোর দিচ্ছে।

টানা ১৯ দিনব্যাপী এই মেগা মহড়ায় জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডার প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। বুধবারের বিশেষ এই মহড়ায় জাপান দুটি ‘টাইপ-৮৮’ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তাইওয়ান থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে ফিলিপাইনের ইলোকস নর্তে প্রদেশে বসে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন জাপান ও ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উপকূল থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে এবং জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেয়।

সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপান এখন বিশ্ব অস্ত্রের বাজারেও আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। সম্প্রতি সানায়ে তাকাইচির সরকার প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র বিদেশে রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর কাছ থেকে ১১টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহের বিশাল ক্রয়াদেশ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফরে রয়েছেন, যা দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

জাপানের এই কর্মকাণ্ডকে ‘পুনরায় সামরিকীকরণ’ হিসেবে দেখছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘আগ্রাসনকারী দেশ হিসেবে জাপান তাদের অতীতের জঘন্য অপরাধের জন্য কোনো অনুশুচনা করেনি। উল্টো তারা এখন নিরাপত্তা সহযোগিতার আড়ালে বিদেশে সৈন্য পাঠাচ্ছে এবং আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।’ 

সম্প্রতি তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন যে, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে-যা বেইজিংকে চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ের অধ্যাপক ই কুয়াং হেং বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাপান ও ফিলিপাইন এখন একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে চীনের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।’