পিছু হঠলো সৌদি ও কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি

হরমুজ প্রণালি সচল করতে মার্কিন সামরিক অভিযানের পথে থাকা সব বাধা দূর হলো। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে নিজেদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে সৌদি আরব ও কুয়েত। এর ফলে এই অঞ্চলে ফের মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর ব্যাপক কার্যক্রমের পথ প্রশস্ত হলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

পেন্টাগন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই অনুমতির ফলে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের স্থগিত হওয়া বিশেষ সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রণতরীর পাহারায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মাত্র ৩৬ ঘণ্টা চলার পর সৌদি-কুয়েতের আপত্তিতে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল ওয়াশিংটন। কিছু কর্মকর্তার মতে, এ সপ্তাহের মধ্যেই এই বিশাল অভিযান পুনরায় শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর ঘোষণা দিলে সৌদি নেতৃত্ব চরম ক্ষুব্ধ হয়। 

এর প্রতিবাদে রিয়াদ সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ‘প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি’ থেকে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়তে দেওয়া হবে না এবং সৌদি আকাশসীমাও ব্যবহার করা যাবে না। কুয়েতও একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে বিশেষ ফোনালাপ হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর রিয়াদ ও কুয়েত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় সামরিক সুবিধা দিতে রাজি হয়েছে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। বর্তমানে ট্রাম্প একদিকে ইরানের ওপর পূর্ণ নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছেন, অন্যদিকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, মিডল ইস্ট মনিটর ও এনবিসি নিউজ।