ইরানের ড্রোন ও অস্ত্র সংগ্রহের নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহের দায়ে ১০টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। মূলত তেহরানের ‘শাহেদ’ (Shahed) অ্যাটাক ড্রোন তৈরির প্রচেষ্টায় সহায়তা করার অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কটি চীনের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি সহযোগিতা কেন্দ্রের (CITC) হয়ে কাজ করছিল। উল্লেখযোগ্য কিছু নাম নিচে দেওয়া হলো:

ইউশিতা সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড: চীন ভিত্তিক এই কোম্পানিটি ইরানের প্রযুক্তি সংগ্রহের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিল। সংস্থাটি চীন থেকে পোর্টেবল এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম কেনার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল।

এলিট এনার্জি এফজেডসিও (Elite Energy FZCO): দুবাই ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি হংকং ভিত্তিক 'AE ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড'-এর মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আর্মোরি অ্যালায়েন্স (Armoury Alliance LLC): বেলারুশ ভিত্তিক এই কোম্পানি এবং এর সিইও মোহাম্মদ আলী তোলিবোভকে ইরানের অস্ত্র সংগ্রহের দীর্ঘকালীন সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের কর্মী ইরানি নাগরিক মোহাম্মদমাহদি মালেকিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।

মুস্তাড লিমিটেড (Mustad Limited): হংকং ভিত্তিক এই মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) হয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়ের আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কটি বিভিন্ন দেশের সীমানা ব্যবহার করে ইরানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এড়িয়ে ড্রোন ও উন্নত সমরাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহ করছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে এবং তাদের সাথে কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। সূত্র: আলজাজিরা