টেনারিফে পৌঁছাচ্ছে হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরি

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত এমভি হন্ডিয়াস (MV Hondius) প্রমোদতরি থেকে যাত্রীদের উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, রোববার জাহাজটি টেনারিফে পৌঁছানোর পর আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই অপারেশন মে মাসের শেষ পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।

আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দে যাওয়ার পথে ডাচ্ পতাকাবাহী এই জাহাজে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজে থাকা ১৪৯ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সরিয়ে নিতে স্পেন সরকার এক ‘অভূতপূর্ব অভিযান’ পরিচালনা করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই অপারেশন তদারকির দায়িত্ব স্পেনকে দিয়েছে।

জাহাজটি টেনারিফের গ্রানাডিলা (Granadilla) পোর্টে সরাসরি ভিড়বে না; বরং সমুদ্রের মাঝখানে নোঙর করে রাখা হবে। কোনো যাত্রীকে স্থানীয় জনগণের সংস্পর্শে আসতে দেওয়া হবে না। জাহাজ থেকে সরাসরি বিমানে করে তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিমানে ওঠার আগে পর্যন্ত কেউ জাহাজ থেকে নামতে পারবে না। জাহাজে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে সরাসরি মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে।

এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এক জন ডাচ্ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক। আরও চারজন বর্তমানে নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ব্রিটেন ও স্পেনে আরও দুটি সন্দেহভাজন কেস নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার জানিয়েছেন, সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি অত্যন্ত কম। এটি কোভিডের মতো দ্রুত ছড়ায় না এবং কেবল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেই সংক্রামিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সময়ই এটি সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক সরকার প্রথমে জাহাজটিকে আশ্রয় দিতে অনিচ্ছুক থাকলেও বর্তমানে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কিছুটা আশঙ্কা থাকলেও সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কড়া প্রটোকলে তারা আশ্বস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ২৩টি দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে টেনারিফে বিশেষ বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।