মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো লিখিত জবাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের এই প্রতিক্রিয়াকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এর ফলে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে শুরু হওয়া শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার (১১ মে, ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি- ইরানের এই জবাব সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।” এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া তেহরানে পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। যেখানে ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তি, পরমাণু কর্মসূচি সীমিতকরণ এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, পাকিস্তান গত রোববার ইরানের পাল্টা প্রস্তাবটি মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল, ইরান সেই জায়গাগুলোতে পাশ কাটিয়ে গেছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবে প্রধান শর্ত ছিল ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস বা সীমিত করা। কিন্তু ইরান তাদের লিখিত জবাবে এই সংবেদনশীল ইস্যুটি এড়িয়ে গেছে।
পরিবর্তে তেহরান তাদের দেওয়া জবাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া ইরান একটি নতুন দাবি উত্থাপন করেছে, যেখানে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর জন্য বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেদের একক কর্তৃত্বের অধিকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই বিপরীতমুখী অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়াকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পর পাকিস্তান বা কাতার নতুন করে কোনো মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে পরমাণু ইস্যু নিয়ে সমঝোতায় না এলে ওয়াশিংটন যে পিছু হটবে না, ট্রাম্পের এই পোস্ট তারই আগাম বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা