বুধবার বেইজিং যাচ্ছেন ট্রাম্প, লক্ষ্য ইরানের ওপর চীনের চাপ প্রয়োগ

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির চরম উত্তেজনার মধ্যেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বুধবার (১৩ মে) তার বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই সফরকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পের এই সফরের প্রধানতম লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে চীনকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। ট্রাম্প মনে করেন, বেইজিং যদি ইরানের ওপর তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব খাটায়, বিশেষ করে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কেনা কমিয়ে দেয়, তবে তেহরান মার্কিন শান্তি প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হবে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।

ইরান ছাড়াও আলোচনায় স্থান পাবে রাশিয়া ও ইউক্রেন সংকট। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের কাছে চীনের তৈরি ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (Dual-use) পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগনের অভিযোগ, বেইজিংয়ের এই পরোক্ষ সহায়তা যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী করছে।

বাণিজ্যিক দিক থেকে এই সফরে দীর্ঘদিনের শুল্ক বা ট্যারিফ যুদ্ধ নিরসনের চেষ্টা করবেন দুই নেতা। গত বছরের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত ‘বাণিজ্য বিরতি’ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও কথা হতে পারে। এছাড়া বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এবং সামরিক ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি সাধারণ নীতিমালায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন ট্রাম্প ও শি জিনপিং।

মার্কিন প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শনের পাশাপাশি বিশেষ চা-চক্র ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। মূলত গত মার্চ মাসে এই সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের সাথে যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন এই সফরের মাধ্যমে দুই পরাশক্তির সম্পর্কের জমাটবদ্ধ বরফ কতটা গলে, সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: এএফপি।

FJ
আরও পড়ুন