ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর শেষ চেষ্টাও বিফলে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর তেলের দাম এক লাফে ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪.১৬ ডলার বা ৪.১১ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৪.৩৮ ডলার বা ৪.৫৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
গত সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধের জোরালো আশার কারণে তেলের বাজারে প্রায় ৬ শতাংশ দাম কমেছিল। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন যে, ১০ সপ্তাহের দীর্ঘ এই সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন পুনরায় স্বাভাবিক হবে। কিন্তু ট্রাম্পের অনড় অবস্থানে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় বাজারে এই নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাতের জায়ান্ট সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী (CEO) আমিন নাসের রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত দুই মাসের যুদ্ধে বিশ্ববাজার ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ব্যারেল তেল হারিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় তেলের প্রবাহ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। নাসের সতর্ক করে বলেন, যদি এখনই তেলের সরবরাহ পুনরায় শুরুও হয়, তবুও বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই কূটনৈতিক লড়াই যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে তেলের দাম যেকোনো সময় গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক পরিবহন ও উৎপাদন খাতের ওপর। সূত্র: আলজাজিরা