লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ লেবাননের ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরণের বিমান ও স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তালিকায় থাকা গ্রামগুলো হলো- আল-রিহান, জারজৌহ, কাফর রুম্মানে, আল-নেমিরিয়েহ, আরাবসালিম, জেমজিম, মাশঘারা, কালাইয়া এবং হারুফ। মুখপাত্র জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর গোপন আস্তানাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল, তাই বেসামরিক নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই এলাকা ত্যাগের নির্দেশ।
লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই নির্দেশের পরপরই নাবাতিয়েহ অঞ্চলের ইউহমোর আল-শাকিফ, তুল এবং শৌকিন এলাকায় অন্তত ৯টি শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এছাড়া আবা এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিমান হামলায় ব্যাপক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সারবিন ও ইয়াতের এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৮ হাজার ৫০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৬৯৩ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু।
এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা নিয়মিত রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি জানায়, মঙ্গলবার আল-তাইবেহ এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে একটি বিশেষ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, লেবানন সীমান্তবর্তী মানারা এলাকায় ড্রোন বিস্ফোরণে তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছে। গত এক মাসে এ নিয়ে ১৮ জন ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সূত্র: আলজাজিরা